বর্তমান সময়ে চারদিকে প্রচুর সুপারফুড দেখা যায়। লাই শাক, কাউন, ব্লুবেরি, চিয়া সিড- এ খাবার গুলোকে সুস্বাস্থ্য এবং সুস্থতার চুড়ান্ত উৎস বলে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু আসলেই কি এই খাবারগুলো এতোটাই ভালো যেমনটা বলা হয়ে থাকে?
এই লেখায় আমরা সুপারফুড নিয়ে কিছু মিথ এবং ফ্যাক্ট সম্পর্কে জানবো এবং এগুলো কিভাবে আপনার দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় কিভাবে ব্যবহার করা যায় তা জানবো।
১ম মিথ: “সুপারফুড সুস্বাস্থ্য এবং ওজন কমানোর জন্যে খুবই কার্যকরী।”
অনেকেই বিশ্বাস করে যে সুপারফুড রোগ সারায় এবং শক্তি বাড়ায়। কিন্তু সত্য এই যে কোনো একটি খাদ্য একা সব করতে পারে না। সুপারফুড ব্যালেন্স ডায়েটের বিকল্প নয় বরং এটি আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ উন্নত করে এবং পুষ্টি প্রয়োজন মেটাতে সাহায্য করে।
মিথ ২: “সুপারফুড দুষ্প্রাপ্য এবং দুর্লভ”
আরেকটি সাধারন ভুল ধারণা হলো এটি যে সুপারফুড খুবই দুর্গম যায়গায় পাওয়া যায় যেমন আমাজনের জঙ্গলে বা হিমালয়ের দুর্গম কোনো স্থানে। কিন্তু সত্য এই যে সুপারফুডকে এর স্থান বা দুষ্প্রাপ্যতা দিয়ে বিচার করা হয় না। এগুলো সাধারণ খাবার যেগুলো অধিক পুষ্টি, এন্টি অক্সিডেন্ট এবং ফাইটোক্যামিকেল সমৃদ্ধ। আপনার নিকটস্থ মুদি দোকান বা বাজারেই আপনি সুপারফুড পেতে পারেন, যেমন: ব্রকোলি, শাক, আপেল, ওটস এবং ডিম।
মিথ ৩: “সুপারফুড খুবই দামি এবং দুষ্প্রাপ্য”
কিছু মানুষ মনে
করে সুপারফুড শুধু ধনী এবং উচ্চবিত্তদের জন্য, যারা দামী অর্গানিক খাদ্য কিনতে
পারেন। কিন্তু সুপারফুড খুব দামী বা দুষ্প্রাপ্য নয়। এগুলো বাজারে বা মুদি দোকানে
পাওয়া যায়। এমনকি আপনি আপ্নার সুপারফুড নিজে উৎপাদন করতে পারেন, যেমন শাক-সব্জি,
বেরি, স্প্রাউটস ইত্যাদি।
মিথ ৪: “সুপারফুড সাধারণ খাবার থেকে বেশি ভালো”
কিছু মানুষ মনে
করে সুপারফুড সাধারন খাবার থেকে উচ্চমাণ সম্পন্ন এবং এগুলো খাওয়ার ধরণ আলাদা। সত্য
হলো এই যে সব সুপারফুড সবসময় সাধারন খাবার থেকে বেশি ভালো এমনটা নয়। কিছু
সুপারফুডের সাইড এফেক্ট থাকতে পারে যেমন এলার্জি বা অন্যান্য শারিরীক অসুবিধা।
যেমন: কিছু সুপারফুড যেমন লাই শাক, ব্রকোলি, স্পিনাচ এগুলোর উচ্চ ভিটামিন কে
উপাদান রক্তের পাতলাকারী উপাদানের সাথে হস্তক্ষেপ করতে পারে। আবার কিছু সুপারফুড
যেমন গোজি বেরি, আকাই বেরি, গ্রিন টি ঔষধ এর সাথে মিলে পার্শ্বপ্রতিকৃয়া দেখাতে
পারে, যেমন এন্টিডিপ্রেসেন্ট, ব্লাড প্রেশারের ঔষধ, কেমোথেরাপির ঔষধ। কিছু
সুপারফুড যেমন বাদাম, বীজ, সয়া এগুলো এলার্জিক রিয়েকশন, হজমে সমস্যা কিংবা হরমোনের
অস্বাভাবিকতার জন্য দায়ী।
মিথ ৫: “সুপারফুড আপনাকে সুস্থ্য রাখতে যথেষ্ট।”
কিছু মানুষ মনে
করে স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে সুপারফুড ছাড়া আর কিছুর প্রয়োজন নেই। আসলে এটি ভুল। এটি
শুধুমাত্র সুস্বাস্থের জন্য একটি ভালো পদক্ষেপ। সুস্বাস্থ্যের জন্য আপনাকে নিয়মিত
ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, স্ট্রেস কমানো এবং ধুমপান এবং মদ্যপান পরিহার করতে হবে।
সুপারফুড আপনাকে সুস্বাস্থ্য পেতে সাহায্য করতে পারে কিন্তু সুপারফুড একা কিছু
করতে পারবে না।
উপসংহার
সুপারফুড যেমন
কোনো মিথ না তেমনি এটি কোনো আশ্চর্য বস্তুও নয়। এগুলো পুষ্টি সমৃদ্ধ উপকাতী খাদ্য
যা আপনার স্বাস্থ্য এবং সুস্থতা বৃদ্ধিতে কাজে লাগে। কিন্তু এগুলোই সব না।
সম্পুর্ণ পুষ্টি পেতে হলে আপনাকে বিভিন্ন ধরনের, বিভিন্ন পুষ্টি সমৃদ্ধ, বিভিন্ন
রঙ্গের এবং বিভিন্ন সোর্স থেকে প্রাপ্ত খাদ্য খেতে হবে। সুপারফুড আপনার
স্বাস্থ্যকর ডায়েটের জন্য উপকারী কিন্তু কোনো একক খাবারই সবকিছু নয়। সুস্বাস্থের
জন্য ব্যালেন্স ডায়েটের পাশাপাশি শারিড়ীক এবং মানসিক সুস্থতাও জরুরি। তাই এর পর
থেকে সুপারফুড সম্পর্কে কিছু শুনলেই পুরোপুরি বিস্বাস করবেন না। নিজে পর্যালোচনা
করে, সত্যতা যাচাই করে আপনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন। মনে রাখবেন, যে খাবারটি খেলে
আপনি সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন সেটিই আপনার জন্য সুপারফুড।
0 Comments
If you have any doubts.please let me know