আমরা স্বাস্থ্য, ডায়েট বা হৃদরোগ নিয়ে কথা বলতে গেলেই কোলেস্টেরলের কথা চলে আসে কিন্তু কোলেস্টেরল আসলে কি? এটি কিভাবে আমাদের শরীরে প্রভাব ফেলে? আর কোলেস্টেরল সম্পর্কে কি কি ভুল ধারণা আমাদের আছে যা দুর করা প্রয়োজন?

এই আর্টিকেলে আমরা কোলেস্টেরল নিয়ে ৫ টি মিথ সম্পর্কে জানবো যা আপনাকে এর সম্পর্কে আরো বিস্তারিত ধারণা দেবে এবং আপনার হার্টের সুস্থতায় কাজে দেবে।





মিথ: সকল ধরনের কোলেস্টেরলই খারাপ।


ফ্যাক্ট: আমাদের শরীরের অনেক অঙ্গের জন্য কোলেস্টেরল খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান, যেমন হরমোন এবং সেল মেমব্রেন তৈরীতে এটি কাজে লাগে। কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত খারাপ কোলেস্টেরল হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। প্রধনত কোলেস্টেরল দুই ধরণের হয়। ১. লো-ডেনসিটি লাইপেপ্রেটিন বা LDL যা খারাপ কোলেস্টেরল নামে পরিচিত এবং ২. হাই-ডেনসিটি লাইপেপ্রেটিন বা HDL যা ভালো কোলেস্টেরল নামে পরিচিত। LDL কোলেস্টেরল ধমনীতে চর্বি জমিয়ে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্থ করতে পারে, এদিকে HDL শরীর থেকে আতিরিক্ত কোলেস্টেরল দুর করতে সহায়তা করে।


মিথ: কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে তা অনুভব করা যায়।


ফ্যাক্ট: উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরলের কোনো লক্ষণ দেখা যায় না যতক্ষন না এটি এনজাইনা, হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের মতো জটিলতা সৃষ্টি করে। এজন্য আপনার কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিৎ, বিশেষ করে যদি আপনার ঝুকির কারণ থাকে যেমন পরিবারের কারো এমন রোগ, ধূমপান, ডায়াবেটিস বা স্থুলতা ইত্যাদি।


মিথ: অধিক কোলেস্টেরল সমৃদ্ধ খাবার খেলেও কোলেস্টেরল বাড়ে না।


ফ্যাক্ট: আপনার খাদ্য তালিকায় থাকা কোলেস্টেরল সমৃদ্ধ খাবার আপনার রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করে, কিন্তু তা স্যাচুরেটেড বা ট্রান্স ফ্যাটের চেয়ে কম পরিমানে। এই ফ্যাট বা চর্বিগুলো আপনার LDL কোলেস্টেরল বাড়ায় এবং HDL কোলেস্টেরল কমায়। রেড মিট, মাখন, পনির, পেস্ট্রি এবং ভাজাপোড়া খাবারে উচ্চ মাত্রায় স্যাচুরেটেড এবং ট্রান্স ফ্যাট থাকে। এগুলোর বদলে আপনাকে বেছে নিতে হবে এমন খাবার যেগুলোতে আছে উচ্চ পরিমাণে ফাইবার যেমন: ফল, সবজি, খাদ্যসশ্য, বাদাম এবং মাছ।





মিথ: কোলেস্টেরল এর মাত্রা কমানোতে আমাদের কোনো হাত থাকে না।


ফ্যাক্ট: আপনি চাইলেই আপনার কোলেস্টেরল এর মাত্রা কমাতে পারেন শুধুমাত্র আপনার জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন এনে। যেমন স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, নিয়মিত ব্যয়াম, ধুমপান ত্যাগ করা এবং পরিমিত মাত্রায় এলকোহল গ্রহণ করা। কারো কারো হয়তো ঔষধের প্রয়োজন হয় তাদের কোলেস্টেরল এর পরিমাণ কমাতে, এটিঝুকির মাত্রার ওপর নির্ভর করে। এক্ষেত্রে আপনার ডাক্তারের পরামর্শই সবচেয়ে ভালো ফল দেবে।

মিথ: শুধুমাত্র বয়স্ক মানুষদেরই কোলেস্টেরল বেশি থাকে।


ফ্যাক্ট: উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল বয়স, লিঙ্গ বা জাতিভেদে যে কাউকেই আক্রমণ করতে পারে। এমনকি শিশু এবং অল্প বয়স্কদেরও উচ্চ কোলেস্টেরল থাকতে পারে, বিশেষত যদি তাদের পারিবারিক হাইপারকলেস্টেরোলেমিয়া নামে একটি জিনগত সমস্যা থাকে যা খুব বেশি LDL কোলেস্টেরলের সৃষ্টি করে। অতএব, আপনার কোলেস্টেরল এবং হার্টের যত্ন নেওয়া শুরু করার জন্য কোনো বয়সের প্রয়োজন হয় না।




সবশেষে


কোলেস্টেরল নিজে কোনো খারাপ জিনিস না, তবে এটি খুব বেশি থাকলে বা ভারসাম্যের বাইরে থাকলে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। কোলেস্টেরল সম্পর্কে ভুল ধারণা এবং সঠিক তথ্যগুলি জেনে আপনি আপনার ডায়েট, জীবনধারা এবং চিকিৎসার সম্পর্কে একটি ধারণা পেতে পারেন। আপনার কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করতে ভুলবেন না এবং আপনার যদি কোনও উদ্বেগ থাকে তবে আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।