আমরা যখন উদ্ভিজ বা নিরামিষ খাবার খাই তখন প্রশ্ন ওঠে যে এই খাবার কি আমাদের পর্যাপ্ত প্রোটিন সরবরাহ করে? চলুন কিছু সাধারণ ভুল ভাঙ্গানো যাক এবং দেখা যাক প্রকৃত সত্য কি?



 

মিথ ১: উদ্ভিদ আমাদের প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করতে পারে না।


ফ্যাক্ট: উদ্ভিজ খাদ্য অবশ্যই আমাদের দৈনিক প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করতে পারে।

বিভিন্ন উচ্চ প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার আছে যা খেলে আপনার প্রোটিনের চাহিদা পূরণ হতে পারে। নিন্মোক্ত খাবারগুলোকে আপনার খাদ্য তালিকায় যুক্ত করতে পারেন:

সয়া: সয়া দুধ থেকে শুরু করে সয়া টফু – সয়ার বিভিন্ন ধরণের খাবার রয়েছে যেগুলোতে ভালো পরিমাণে প্রোটিন পাওয়া যায়।

শিম/বীজ: মটরশুটি, বিভিন্ন ডাল, মটর এগুলো প্রোটিনের ভালো উৎস।

বাদাম এবং বীজ: বাদাম, চিয়া বীজ এবং কুমড়োর বিচিতে প্রোটিন পাওয়া যায়।

উদ্ভিদ ভিত্তিক প্রোটিন পাওডার: এ ধরণের খাবারগুলি অতিরিক্ত প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করে।


মিথ ২: সকল খাবারেই প্রোটিন থাকতে হবে।


ফ্যাক্ট: উদ্ভিজ প্রোটিন এমিনো এসিডে রুপান্তরিত হয়, যা প্রানিজ প্রোটিনে দেখা যায় না। তাই আপনার সব খাবারেই প্রোটিন থাকতে হবে এমনটা নয়। ভারসাম্যপূর্ণ এবং বিভিন্ন ধরনের খাবারের দিকে মনোনিবেশ করুন।


মিথ ৩: উচ্চমান সম্পন্ন উদ্ভিজ প্রোটিন পাওয়া যায় না।


ফ্যাক্ট: সব ধরনের উদ্ভিজ প্রোটিন নিন্মমানের নয়। মাইকোপ্রোটিন (কোয়ার্নে পাওয়া যায়) মানের দিক থেকে দুধে থাকা প্রোটিনের সমান। আবার উদ্ভিদের প্রোটিনগুলিকে "নিম্নমানের" হিসাবে চিহ্নিত করা এক দিনের মূল্যবান বিভিন্ন উদ্ভিদ প্রোটিন গ্রহণের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে উপেক্ষা করে।



মিথ ৪: উদ্ভিজ প্রোটিনের ক্ষেত্রে খাদ্য গ্রহনের সময় কোনো ব্যাপার নয়


ফ্যাক্ট: পেশি বৃদ্ধি এবং রক্ষনাবেক্ষনের জন্য আপনার প্রোটিন সারা দিন ধরে গ্রহন করতে হবে। প্রতি ৩-৪ ঘন্টা পর পর ২০-৪০ গ্রাম করে প্রোটিন গ্রহণ করুন। সব প্রোটিন রাতের খাবারের জন্য জমিয়ে না রেখে সারা দিন ধরে প্রোটিন গ্রহণ করুন।


মিথ ৫: উদ্ভিদ প্রোটিনে প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিডের অভাব রয়েছে


ফ্যাক্ট: উদ্ভিজ প্রোটিন প্রয়োজনীয়েএ্যমিনো এসিড সরবরাহ করে। যদিও একেক উৎস থেকে প্রাপ্ত প্রোটিন এর পরিমাণ একেক রকম হবে। তাই বিভিন্ন ধরনের খাবারের সমন্বয় করলে সঠিক পরিমানে এমিনো এসিডের উপস্থিতি নিশ্চিত করে। শুধু মাংস নিয়ে ভাবা বাদ দিয়ে উদ্ভিজ প্রোটিনের সমৃদ্ধ সংগ্রহের দিকে নজর দিন।



সবশেষে


উদ্ভিজ প্রোটিনের একটি উল্লেখযোগ্র দিক হচ্ছে এর উৎস প্রচুর, তাই বিভিন্ন ধরনের এবং বিভিন্ন স্বাদের খাবার খেতে পারেন। এগুলি আপনার স্বাস্থের জন্য ভালো এবং দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য উপকারী। উদ্ভিজ প্রোটিন গ্রহণে আপনার নিজের এবং প্রকৃতি দুই এরই ইপকার হচ্ছে। তবে মনে রাখবেন, আপনার শরীরের জন্য কোন খাবারটি ভালো হবে তা নিশ্চিতের জন্যে একজন অভিজ্ঞ ডায়েটিশিয়ান বা পুষ্টিবিদের সাথে পরামর্শ করুন।