আমাদের সবারই কম-বেশি মিষ্টি পছন্দ। খাবার হোক বা পানীয়, সেটাকে মিষ্টি করতে আমরা চিনি ব্যবহার করি। কিন্তু বর্তমানে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষেরা মধুকে চিনির বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করছে। চলুন দেখা যাক আসলেই মধু চিনির সঠিক বিকল্প কি না।
মিথ ১: মধু চিনির চেয়ে স্বাস্থ্যকর।
ফ্যাক্ট: মধুতে ভালো পরিমানে ভিটামিন, মিনারেল এবং এন্টি-অক্সিডেন্ট পাওয়া যায়, তারপরও এটি এক প্রকারের মিষ্টি জাতীয় খাবার বা চিনির অন্য একটি রুপ। মধু এবং চিনি দুটোই কোনো উল্লেখযোগ্য পুষ্টি ছাড়া শুধু ক্যালোরি সরবরাহ করে। তাই যে কোনো খাবারই পরিমিত খাওয়াই একমাত্র উপায়।
মিথ ২: মধুর গ্লাইকেমিক ইনডেক্স (GI) কম।
ফ্যাক্ট: একটি খাবার কতো দ্রুত রক্তের সুগার লেভেল বাড়ায় তা গ্লাইকেমিক ইনডেক্স (GI) দিয়ে পরিমাপ করা হয়। মধুর গ্লাইকেমিক ইনডেক্স (GI) চিনির থেকে কম, কিন্তু তা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে নয়। তাই আপনার উচিত গ্লাইকোমিক ইনডেক্স এর নাম্বারের উপর ভরসা না করে খাদ্যাভাসের উপাদানের উপর জোর দেওয়া।
মিথ ৩: মধু ওজন কমাতে সাহায্য করে।
ফ্যাক্ট: কিছু মানুষ বিশ্বাস করে মধুর মধ্যে থাকা উপাদান যা বিপাকক্রিয়া দ্রুততর করে সেগুলো ওজন কমাতে সাহায্য করে। এ বিষয়ে গবেষণা এখনো চলমান। মধুতে ভালো পরিমাণেই ক্যালরি থাকে তাই চিনির বদলে এটি খেলে আপনার ওজন রাতারাতি কমতে শুরু করবে না।
মিথ: মধু ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য উপকারী।
ফ্যাক্ট: ডায়াবেটিসের রোগীদের ক্ষেত্রে মধু সতর্কতার সাথে খাওয়া উচিত। যদিও এটি খেলে ব্লাড সুগার চিনির চেয়ে ধীরে বাড়ে, কিন্তু বাড়ে। তাই আপনার ডায়াবেটিস থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে মধু খান।
মিথ ৫: মধু প্রাকৃতিক খাদ্য।
ফ্যাক্ট: মধু এবং চিনি দুটোই প্রকৃয়াযাতকরণের মধ্যে দিয়ে যায়। মধু মৌমাছি থেকে আসে, আর চিনি পাওয়া যায় আখ থেকে। কোনোটাই বেশি প্রাকৃতিক হবার উপায় নেই। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং স্বাস্থ্যের উপর নির্ভর করে আপনার পছন্দ নির্ধারণ করুন।
সবশেষে
মধু কোনো অত্যাশ্চর্য্য অমৃত নয়, কিন্তু এর আলাদা স্বাদ এবং সামান্য কিছু স্বাস্থ্যগত সুবিধা আছে। এটি সাবধানে এবং পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করুন। আপনি মধু বা চিনি যেটাই খান না কেন ভারসাম্য বজায় রাখা এবং সচেতন থাকাই স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার মূল কথা।


Comments
Post a Comment
If you have any doubts.please let me know